প্রশ্ন : তান্ত্রিক বা কবিরাজের কাছে গিয়ে যাদু, টোনা, জিনের চিকিৎসা করা কি ইসলামে বৈধ? শিক্ষানীয় কিছু কথা। SR-Media24

Views
প্রশ্ন এবং উত্তর  


প্রশ্নঃ তান্ত্রিক বা কবিরাজের কাছে গিয়ে যাদু, টোনা, জীনের চিকিৎসা করা কি ইসলামে বৈধ?   
:
উত্তরঃ তান্ত্রিক বা কবিরাজদের শক্তি হল কুফুরি কালাম, কুফুরি কালামটা আসলে কী ?
:
কুরআনের আয়াতকে উল্টো করে লিখা এবং মন্ত্র আকারে পড়াটা হল কুফুরি কালাম।
:
তাই এসব তান্ত্রিক বা কবিরাজদের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিলে আপনিও গুনাহগার হবেন, কারণ ঐ কবিরাজ আপনার জন্যই কুফুরি কালাম পড়ে ঝাঁকফুক করবে, কুফুরি কালাম লিখে তাবিজ দিবে, এতে কবিরাজের সঙ্গে  আপনিও গুনাহগার হবেন।
:
:
1/ কুরআনে আল্লাহ বলেন :
:
" যারা কুফরি করে এবং আল্লাহর নিদর্শনগুলো মিথ্যা প্রতিপন্ন করে,তারাই জাহান্নামের অধিবাসী,তাঁরা সেখানে চিরকাল থাকবে "
:
[সূরাঃআল-বাকারা; আয়াত : ৩৯]
:
:
এ ছাড়া কবিরাজরা বিভিন্ন ধরণের তাবিজ লিখে দেয়, যেগুলো ঝুলাতে হয়,,
:
2/ রাসূল (সাঃ) বলেছেন :
:
যাদু, তাবীজ এবং অবৈধ, প্রেম ঘটানোর মন্ত্র শির্ক-এর অন্তর্ভুক্ত।
:
(সুনান আবূ দাউদ, হাদিস নম্বর : ৩৮৮৩)
:
:
অর্থাৎ যাদু করে প্রেম ভালবাসা তৈরি করাও শিরীক।
:
:
3/ আল্লাহ বলেন :
:
"নিশ্চয় অাল্লাহ শির্কের গোনাহ মাফ করেন না, এছাড়া সকল গোনাহ অাল্লাহ চাইলে ক্ষমা করেন।
:
-------(সুরা:নিসা,অায়াত :৪৮,১১৬)
:
"মুমিনদের সর্ব অবস্হায় অাল্লাহর উপর ভরসা করা উচিত"।
:
-------(মায়েদা :২৩)
:
"অাপনি যদি শির্ক করেন অাপনি ক্ষতিগ্রস্ত দের অন্তভুক্ত হবেন এবং অাপনার অামল নষ্ট হয়ে যাবে"।
:
-----(যুমার:৬৫)
:
:
"যে ব্যাক্তি অাল্লাহর সাথে শির্ক করে,অাল্লাহ তার জন্য জান্নাত কে হারাম করে দেন,জাহান্নাম কে অবধারিত করে দেন"।
:
--------(সূরা মায়েদা : ৭২)
:
:
:
যদি কেউ যাদু টোনার সমস্যায় ভোগে -- খাটি ঈমানের সাথে সূরা ফালাক, সূরা নাস প্রতিদিন কয়েকশবার ওজু করে পড়তে হবে, তাহলে সুফল পাবেন।
:
নতুবা একজন আলেমের কাছে যাবেন যিনি কুরআন পড়ে চিকিৎসা করবে।
:
আরব দেশেও জিন, যাদু টোনার চিকিৎসা আছে, সেখানে মানুষ কুরআনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়, কোন তাবিজ ব্যবহার করে না কেউ।
:
:
4/ রাসূল (সাঃ) বলেছেন :
:
" কেবল বদনযর লাগা কিংবা বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে চিকিৎসায় ঝাড়ফুঁক দেয়া যায় "
:
(সুনান আবূ দাউদ, হাদিস নম্বর : ৩৮৮৪)
:
বদ নজরটা জীন, মানুষের হতে পারে, সে ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁক করতে হবে ইসলামের পথে, আলেমের মাধ্যমে, যাদুকরের মাধ্যমে নয়।
:
:
5/ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন : ভূত-প্রেত নেই।
:
(সুনান আবূ দাউদ, হাদিস নম্বর : ৩৯১৩)
:
:
জিন আছে পৃথিবীতে, তবে মৃত মানুষের আত্না, প্রেত এসব নাই।
:
:
6 / রাসূল (সাঃ) বলেছেন :
:
যার হাতে আমার জীবন তার কসম যখন শাইতান উমর (রাঃ) কে কোন রাস্তায় চলতে দেখে তখন সে উমরের রাস্তা বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ ধরে চলে।
:
(সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ৬০৯৬)
:
শয়তান হল জিন জাতি। উমর (রাঃ) এর ছিল প্রচুর সাহস, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পেতেন না,
:
জিন বা ভূত যাই বলিনা কেন, এদেরকে ভয় পাওয়া যাবে না, জিনকে যত বেশি ভয় পাবেন, জিন ততই অহংকারী হয়ে উঠবে এবং এরা তত বেশি চেপে ধরবে।
:
:
6 / রাসূল (সাঃ) বলেছেন :
:
যে লোক কোন কিছু ঝুলিয়ে রাখে (তাবিজ-তুমার) তাকে তার উপরই সোপর্দ করা হয়।
:
(সূনান আত তিরমিজী, হাদিস নম্বর: ২০৭২)
:
অর্থাৎ যে তাবিজ ঝুলাবে, তাকে তাবিজের উপর নির্ভরশীল করে দেয়া হয়।
:
:
7 / রাসূল (সাঃ) এক ব্যক্তির হাতে পিতলের বালা পরিহিত দেখে জিজ্ঞেস করেন : এই বালাটা কী?
:
সে বললো, এটা অবসন্নতা জনিত রোগের জন্য ধারণ করেছি। তিনি বলেন : এটা খুলে ফেলো। অন্যথায় তা তোমার অবসন্নতা বৃদ্ধিই করবে।
:
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর : ৩৫৩১)
:
:
আফসুস, আমাদের দেশের মানুষ মুসলিম হওয়া সত্বেও এসব তান্ত্রিক কবিরাজের কাছে যায়, মেয়ের বিয়ে হয় না কেন সে জন্য তাবিজ আনে, চিনি পরা, পানি পরা আনে,,,  অথচ এগুলো জঘণ্যতম শিরীক।
:
জিন যত শক্তিশালী হউক না কেন, আরব দেশের মানুষ কুরআনের আয়াত দিয়ে চিকিৎসা করে, এতেই জিন পালিয়ে যায়, তাবিজও ব্যবহার করতে হয় না।
:

কোন মন্তব্য নেই

✔যদি ভালো লাগে অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের কে জানাবেন।
❌প্লিজ কেউ কেনো প্রকার আজে বাজে কমেন্ট করবেন না।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.